ওয়েব ডিজাইনের মূল কাজটি হচ্ছে ওয়েবপেইজ এর লে-আউট তৈরি করা । এটি এক ধরনের শিল্প যার মাধ্যমে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব এর মাধ্যমে একটি ওয়েবসাইটের বিভিন্ন বিষয়বস্তু যেকোন ব্যবহারকারীর কাছে উপস্থাপন করা হয়।

ওয়েব ডিজাইন বলতে মূলত ওয়েবপেইজ তৈরিতে বিভিন্ন কার্যাবলীকে বুঝায়। একটি ওয়েবসাইটে ফ্রন্ট এন্ড যা আমরা দেখি এবং ব্যাক এন্ড থাকে যা আমরা দেখিনা । এই ফ্রন্ট এন্ড অংশ বানানোই মূলত ওয়েব ডিজাইনিং।

একটি ওয়েবসাইট তৈরিতে নিম্নলিখিত ধাপ সমূহ অনুসরণ করা হয়।–

১। পরিকল্পনা (Planning):

ক) ওয়েবসাইট তৈরির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ;

খ) ওয়েবসাইটের সম্ভাব্য ব্যবহারকারীর সংখ্যা ;

গ) ওয়েবসাইটের প্রকাশিতব্য বিষয়বস্তু;

ঘ) ওয়েবসাইটের গুণগত মান ইত্যাদি বিষয়গুলো পরিকল্পনার আওতার মধ্য পড়ে।

২। ইনফরমেশন আর্কিটেকচার (Information Architecture):

ওয়েবপেইজ ডিজাইনের প্রথম সাধারণ পদ্ধতি হচ্ছে লজিক্যাল স্ট্রাকচার। এক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হয় সেগুলো হল –

ক। কী ধরনের তথ্যের ক্ষেত্রে কোন ধরনের আর্কিটেকচার ভাল হবে ।

খ। পাঠকরা প্রয়োজনীয় তথ্য কিভাবে খুঁজে পাবে।

গ। ওয়েবসাইট ব্রাউজ করতে করতে ইউজার কিভাবে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে পারবে। ইত্যাদি।

৩। ডিজাইন (Design): একটি ওয়েবসাইটের লেআউট কেমন হবে অর্থাৎ বাটনগুলো দেখতে কেমন হবে, কীভাবে সজ্জিত থাকবে, হোম পেইজ কেমন হবে, মূল টেক্সট কোথায় থাকবে ইত্যাদি জিনিসের একটি প্রাথমিক রূপরেখা প্রণয়ন করা হয়।

চারটি বিষয়ের উপর ডিজাইনের সফলতা নির্ভর করে – ক। যৌক্তিকতা খ। সহজবোধ্যতা গ। সামঞ্জস্যতা (Compatibility) ঘ। সহজ প্রাপ্যতা (Accessibility)

৪। প্রোগ্রামিং(Programing): ডিজাইন শেষ করার পর কোডিং এর কাজ তথা প্রোগ্রামিং এর কাজ করা হয়। এই ধাপে – এইচ টি এম এল দ্বারা লেআউট তৈরি করা হয়, স্টাইলশীট দ্বারা সেটিকে স্টাইল করা হয়, ডাইনামিক ওয়েবপেইজ এর জন্যএকটি যথাযোগ্য প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ দ্বারা ডেটাব্যাজ ম্যানেজমেন্ট করা হয়।

৫। ওয়েবপেইজ টেস্টিংঃ এই ধাপে ডিজাইন এবং কোডিং শেষ করার পর ওয়েবসাইটের বিভিন্ন ওয়েবপেইজকে পরীক্ষা করে দেখা হয়। বিভিন্ন ব্রাউজারে সেটি কেমন দেখাবে এবং কিভাবে কাজ করবে তা বার বার নিশ্চিত করা হয়। ওয়েবসাইটটি যেভাবে কাজ করার কথা ঠিক সেভাবে যাতে কাজ করে সেটি নিশ্চিত করার জন্যই টেস্টিং এর প্রয়োজন হয়। টেস্টিং ব্যতিরেকে কোন ওয়েবসাইট ব্যবহারকারীর জন্য উন্মুক্ত করা উচিত নয়।

৬। ওয়েবসাইট আপডেট ও রক্ষণাবেক্ষণঃ (Update and Maintenance): ওয়েবসাইটিকে প্রয়োজনমত আপ টু ডেট (up to date) রাখতে হয়। চাহিদা ও প্রয়োজন অনুসারে নিয়মিত পরিবর্তন ও পরিমার্জন করা এবং ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা জনিত কাজ এই ধাপে করা হয়।

ওয়েবসাইট পাবলিশিং